সিটং যেতে চাইছেন ? সিটং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগের ব্লগটি ফলো করতে এই লেখাটির ওপর ক্লিক করে করুন। . . .
চটকপুর ব্লগটি অনেকদিন পর পোষ্ট হলেও বেশিরভাগ ইনফরমেশন এখান থেকে পেয়ে যাবেন।
Why should you visit Chatakpur ? ( চটকপুরে কেন ঘুরতে যাবেন ?)
সিটং থেকে সকাল ৯.৩০ টার সময় রওনা দিলাম চটকপুরের উদ্দেশ্যে। সিটং হোমস্টে থেকে জানতে পেরেছিলাম চটকপুরের রাস্তাটা পুরোটাই প্রায় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভাগ্য সঙ্গ দিলে বাঘ , ভল্লুক আর হরিণদের সাথে দেখাও মিলতে পারে । রাস্তা বেশি নয় Bisesh Homestay থেকে, বাগোড়া হয়ে গেলে কম-বেশি ৩০ কিলোমিটার ,তবে জঙ্গলের রাস্তা খারাপ থাকার জন্য ৩০মিনিট সময় বেশি লেগেছিলো আমাদের ।
DISTANCE FROM :
PLACE FROM | PLACE TO | DISTANCE | TRAVEL TIME |
SITTONG (VIA BAGORA) | CHATAKPUR | 30 Km. | 2 hr. |
NJP | CHATAKPUR | 64 Km. | 2 hr. 30 min. |
BAGDOGRA [ IXB ] | CHATAKPUR | 60 Km. | 2 hr. 15 min. |
DARJEELING | CHATAKPUR | 19 Km. | 1 hr. 15 min. |
সিটং হোমস্টে থেকে চটকপুর পর্যন্ত আমাদের গাড়ি বাবদ ২৫০০ টাকা ব্যায় করতে হয়েছিল জঙ্গলের রাস্তা খারাপ থাকার জন্য । নাহলে ২২০০ তে হয়ে যেত । একটা জিনিস বলে রাখা দরকার, চটকপুরে বেশিরভাগ হোমস্টে প্রযন্ত গাড়ি পৌঁছায় না তাই ২০০ – ৩০০ মিটার প্রযন্ত আপনাকে হেঁটেই হোমস্টে পৌঁছাতে হবে , আমাদের তা ৩৫০ মিটার মত ছিল। ভয় পাওয়ার কিছু নেই , লাগেজ হোমস্টে থেকে লোক পাঠিয়ে নিয়ে যায় ।
government এর একটা cottage আছে ২ রুম ওয়ালা , সেটা প্রযন্ত গাড়ি পৌঁছে যায় । government cottage টা একটু নিচে থাকার জন্য ভিউ টা অনেক কম তবে cottage নিয়ে কথা হবে না এক কথায় অসাধারণ তবে প্রাইস অনেকটা বেশি ।
1. GEOGRAPHICAL LOCATION OF CHATAKPUR
পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার অধীনে একটি পাহাড়ি গ্রাম চটকপুর যেটা পাইন এবং রোডোডেনড্রন বনাঞ্চল দিয়ে ঘেরা এবং জায়গাটি পাখি প্রেমীদের স্বর্গ । সেনচাল বন্যজীবন অভয়ারণ্যের মধ্যে সমুদ্রাপিষ্ট থেকে ৭৮৮৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ।
চটকপুরের উত্তরে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালা এবং দক্ষিণে রিল্লি খোলা নদী দ্বারা বেষ্টিত । ১৫০ জনেরও কমবেশি জনসংখ্যার সমন্বয়ে এই গ্রাম । অপ্রতিরোধ্য সবুজ বন আর প্রকৃতির মাঝে লোকেরা সাধারণত জৈব কৃষিকাজে জড়িত । চাটকপুরে মোটামুটি ৩০টির মত বাড়ি রয়েছে । চাটকপুর হল টাইগার হিলের ঠিক বিপরীতে একটি সুন্দর গ্রাম ।
2. ENTRY PERMISSION AND FARES
আপনি যদি টুর অপারেটর দের সাথে যান ওনারা টুর প্যাকেজের সাথে আলাদা করে চার্জ নিয়ে নেবে।
নিজে হোমস্টে ঠিক করে গেলে আপনি হোমস্টের সাথে এন্ট্রি চার্জেস এর কথা বলে নেবেন। সাধারণত এন্ট্রি চার্জেস আপনার হোমস্টে ছাড়বার সময় আলাদা করে নিয়ে নেন।
3. WILDLIFE SANCTUARY ENTRY FEES
Indian Tourist: per person 100/-
Foreigner Tourist: per person 500/-
Vehicle Entry Fee: Per Car 250/-
4. WHAT IS THE ALTITUDE OF CHATAKPUR ?
The location of Chatakpur is 7,887 Ft (2380 meters) above Sea level. Coordinates 26.9671 N, 88.3112E
চটকপুর যাবার রাস্তাটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বিশেষ করে জঙ্গলে ঢোকার আগে একটা চেকপোস্ট পরে তারপর থেকে যে রাস্তাটা শুরু হয় সেটা অসাধারণ , কোন কোন জায়গায় সূর্যের আলো পৌছায়না বললেই চলে তাই জঙ্গলের অন্ধকারে ভয় আর আনন্দ নিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে ১ঘন্টা সময় আপনাকে ব্যায় করতেই হবে। প্রকৃতির এই রূপ ভাষায় বর্ণনা করা মুশকিল।
আমাদের গন্তব্য Humrohome “Angchu Homestay” (THIS IS AN ASSOCIATE PROPERTY) কলকাতা থেকে বুকিং করেছিলাম through Humrohome,(১৩০০ টাকা মাথা পিছু Food with Lodging) ডাইরেক্ট বুক করতে পারলে দু -পয়সা কমে পাবেন। ডাইরেক্ট বুকিং ব্লগের শেষে দেওয়া থাকবে। Humrohome এর সাইট থেকে অনেক জায়গার হোমস্টে এর তথ্য পেতে পারবেন এবং বুকিং ও করতে পারবেন। তবে সিটং এর Bisesh Homestay এর মত ধাঁ-চকচকে না হলেও অবস্থান ও পরিবেশের এর দিক থেকে “Angchu-র Homestay” কে একটু এগিয়ে রাখব।
“আংচুর হোমস্টে” টা চটকপুরের সবথেকে ভালো জায়গায় অবস্থিত, এর জন্য Humrohome কেই ক্রেডিট দেব কারণ হোমস্টের অবস্থান সম্পৰ্কে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। হোমস্টে টা ৩৬০ডিগ্রি ওপেন আর তাই ভিউ দারুন ।
হোমস্টের ২মিনিটের দূরত্বে আর একটা ভিউ পয়েন্ট আছে যেটা দেখতে নিচের হোমস্টে গুলো আর government cottage থেকে টুরিস্টদের কে এই “আংচুর হোমস্টে” এর কাছে আসতে হয় ভিউ দেখতে। চটকপুরের ঠিক অবস্থান হলো বিখ্যাত Tiger hill sunrise point এর পাশের পাহাড়ের চূড়াটি। Kanchenjunga কে তাই হোমস্টে থেকে দারুন ভাবে দেখা যায়।
জঙ্গলের রাস্তায় ঢোকার সাথে সাথে বৃষ্টি নামে গাড়ি ধীরগতিতে চলতে থাকে সেজন্য আমাদের চটকপুর পৌঁছাতে দুপুর ১২টার মতো বেজে গেছিলো। হোমস্টে প্রযন্ত গাড়ি পৌঁছায় না তাই আগে-ভাগে হোমস্টের মালিক Angchu Sherpa কে ফোনে টাইম টা জানিয়ে দিয়েছিলাম গাড়ির কাছে আসবার জন্য । পৌঁছাতে দেরি হতে পারে ভেবে দুপুরের লাঞ্চটা রেডি করতে বলে দিয়ে ছিলাম আংচুকে ।
ছোট্ট চেকপোস্ট এর সামনে এসে গাড়ি দাঁড়াল , গাড়ি আর যেতে পারবে না সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। ওখান থেকে একটু ওপরে উঠলেই হোমস্টেগুলো শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমাদের টা একদম ওপরে সবার লাস্টে তারপর রাস্তা শেষ আর যাওয়া যায় না । গাড়ি থেকে নামতেই ঠান্ডাটা অনুভব করলাম। ড্রাইভার দাদা বললেন ৭৮৮৭ ফুটে আমরা উঠে এসেছি ঠান্ডা তো হবেই ।
যথারীতি Angchu Sherpa এবং ওনার স্ত্রী Sushila Sherpa গাড়ির কাছে হাজির হয়ে গেল । দুজনে হাসি দিয়ে আমাদের আপ্যায়ন করল তারপর আমাদের লাগেজ নিয়ে হোমস্টের দিকে হাঁটা দিলো । টিপ টিপ করে বৃষ্টি হচ্ছিল রাস্তাটা একটু পিচ্ছিল ছিল সাথে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে আমরা একটু ধীর গতিতে হেটে হোমস্টে এসে পৌছালাম। চারদিকের দৃশ্য ছিল দেখার মতো।
ফ্রেশ হতে সকলে রুম এ চলে গেলাম। খিদেতে পেটে আগুন জ্বলছে , লাঞ্চ সারতে রুম এর ঠিক পিছনে কিচেনে এসে পৌছালাম । আগুনে সকলে একটু তাপ নিয়ে লাঞ্চ সারতে ২ টো বেজে গেল।
খাবারের টেস্ট আর মান বেশ ভাল , সব ভেজিটেবলই আংচুর হাতে তৈরী (Organic Agriculture) । নিজের গরু থাকার জন্য গরুর দুধের চা আর বাচ্ছাদের জন্য দুধের ব্যাবস্থাও রেখেছে । লাঞ্চ শেষ করে রেস্ট নিয়ে সময় নষ্ট করতে চাইছিলাম না কারন হাতে কালকের দিনটা মাত্র পরশু দার্জিলিং এর প্ল্যান আছে। লাঞ্চ এর পর আংচু আমাদের সামনের ভিউ পয়েন্ট ( Sunrise Point ) দেখাতে নিয়ে গেল।
৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম ভিউ পয়েন্টে। গায়ের ওপর দিয়ে মেঘ গুলো ছুঁয়ে যাচ্ছিলো । সাথে সাথেই হালকা বৃষ্টি শুরু হল যদিও ভিজে যাবার মত বৃষ্টি ছিল না। যে জঙ্গল টা আমরা গাড়ি করে অতিক্রম এসেছি সেটা ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা যাচ্ছিল সাথে অনেক নিচে সিটং , লাটপাঞ্চার-কেও দেখলাম ।
অনেকটা সময় কাটিয়ে হোমস্টেতে ফিরে এলাম বিকাল পাঁচটা নাগাদ । জায়গাটা এতটাই সুন্দর মনে হচ্ছিল আরও একটু থাকি কিন্তু উপায় নেই ছোট বাচ্ছারা সাথে আছে টেম্পারেচার অনেকটা ডাউন হয়েগেছে প্রায় ৪ ডিগ্রীর মত। সূর্যিমামার দেখা নেই অন্ধকার নেমে আসছে আর বাতাসের গতিবেগও খুব জোরে তাই ঠান্ডাটা ছুঁচের মত বিদছিলো ।
5. ATTRACTIONS IN AND AROUND CHATAKPUR ( CHATAKPUR SEIGHTSEEING )
যারা সাইটসিন এর উদ্দশ্যে এখানে আস্তে চান তারা ভুল করবেন , এখানে নামী কোনো সাইটসিন নেই। পুরজায়গাটাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি ছোট্ট গ্রাম। যারা প্রকৃতির কোলে থাকতে ভালোবাসেন তাদের জন্য আদর্শ। প্রায় ৩ কিলোমিটার ত্রিভুজ আকৃতি পথ জোরা একটি বন্য গ্রাম । যেটা পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন ।
- Tiger Hill Trek : যারা Trekking ভালোবাসেন তারা ভোর ভোর বেড়িয়ে Tiger Hill Trek করতে পারেন।
- Salamander Lake Trek : government cottage এর পাস দিয়ে একটা ঘন পাইন এর জঙ্গল আছে , সেখান থেকে একটু ভিতরের দিকে ঢুকলে একটা ছোট জলাশয় (Salamander Lake )পাবেন সেখানে সালামান্ডার দেখতে পাবেন। এটি একটি অনন্য এবং বিরল লেজযুক্ত উভচর প্রাণী । সালামান্ডার কেবল ভারতে দেখতে পাওয়া যায় । এটি পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের ল্যানটিক আবাসগুলির একটি মূল প্রজাতি।
- Chatakpur Sunrise Point : ছোট্ট ট্রেক করে Sunrise Point এ যেতে পারেন , আবহাওয়া ভালো থাকলে ওয়াচ টাওয়ার থেকে সিকিমের নাথুলা , চারধাম , নামচি পশ্চিমবঙ্গের বাগোড়া এবং শিলিগুড়ির দর্শন হয়ে যেতে পারে।
বর্ষায় পাহাড় আমায় বরাবরই ভাল লাগে সবুজায়ন আর মেঘের জন্য। চটকপুরের জঙ্গল ,পাহাড় আর মেঘ আজও আমায় টানে। ভাগ্য ভালো থাকলে ডিসেম্বর জানুয়ারী মাসে এখানে আসলে স্নোফল ও পাওয়া যেতে পারে।
ডিসেম্বর মাসের আংচুর দেওয়া ফটো শেয়ার করলাম।
হোমস্টেতে ফিরে আস্তে না আসতেই সুশীলা আমাদের জন্য চা আর বাচ্ছাদের জন্য গরম দুধ নিয়ে এসে হাজির। হোমস্টের সামনের দিকে পাহাড়ের গায়ে একটা ছোট্ট গার্ডেন চেয়ারে বসে মেঘ আর ঠান্ডাটা উপভোগ করতে করতে চা খেতে লাগলাম। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ স্ন্যাক্স চিকেন পকোড়া আর কফি নিয়ে সুশীলা আমাদের রুমে এসে হাজির।
আজ সকলে খুবই ক্লান্ত আর সকাল সকাল উঠতে হবে কাঞ্চনজঙ্ঘার লাল রূপ দেখার জন্য তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাব সকলে ঠিক করে ফেললাম। এমনিতে পাহাড়ে সবাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে সেটাও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল তাই ৯.৩০ নাগাদ ডিনার সারতে হবে।
দ্বিতীয় দিন ৩০শে মে ২০১৯ ( বৃহষ্পতিবার )
আবহাওয়া খারাপের জন্য Sittong থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাইনি। অবশেষে এখানে কিছুক্ষনের জন্য ভাগ্যটা সঙ্গ দিয়েছিল। একটু মেঘলা থাকার জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘার লাল রূপ দর্শন না হলেও তুষারে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়েছিলাম। আমার মনেহয় চটকপুর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, টাইগার হিলের থেকে বেশি ভালো দেখা যায়।
৮টা নাগাদ ব্রেকফাস্ট সেরে সকলে মিলে নিচে গভমেন্ট কটেজের দিকে ঘুরতে গেলাম। আবহাওয়া মন্দ-ভাল মিলিয়ে ছোটদের নিয়ে ৪ টি ঘন্টা কোথায় যে কেটে গেল বোঝা গেল না। নিচের দিকটা অন্নরকমের সৌন্দর্য তবে ভিউ কম। নিচের দিকে একটা পাইনের জঙ্গল চোখে পড়ল , জঙ্গলের ভিতর দিয়ে একটা ছোট্ট ট্রেক আছে Salamander Lake ট্রেক।
ট্রেকটা করব ভেবে ছোটদের নিয়ে জঙ্গলের ভিতর প্রবেশ করে ছিলাম ৫০০ মিটার মতো। পাইনের জঙ্গলের ঘনত্ব আর জোঁকের ভয়ে রিটার্ন করে ফেললাম। ছোটরা না থাকলে Salamander Lake ট্রেকটা করে আসতাম ঠিক। আপনারা অনায়াসে এই ছোট্ট ট্রেকটি করতেই পারেন।
কিছুক্ষন ফটো পর্ব সেরে পায়ে পায়ে আমাদের হোমস্টেতে ফিরতে দুপুর ১২টা হয়ে গেছিল। আপনারা হয়তো লক্ষ করেছেন পাহাড়ে খিদে টা বেশি পায় তারপর একটু হাঁটাচলা করলে দেখতে হবে না, আমাদের ও সেটাই হল আর অগত্যা ফিরতে হয়েছিল ।
দুপুর ১.৩০ নাগাদ এগ মিলের সাথে পঞ্চ-ব্যাঞ্জন দিয়ে লাঞ্চ-পর্ব সেরে কালকের সেই ভিউ পয়েন্ট (Sunrise Point) ঘুরতে গেলাম। সুনীতার হাতের রান্না বেশ ভাল ।
সন্ধ্যা বেলা ফিরে চিকেন মোমো দিয়ে সন্ধ্যা পর্বটা বেশ ভাল কাটলো। আজ আবহাওয়া টা ভালো থাকার জন্য অনেক নিচে sittong ও অন্য শহর গুলোর লাইট জোনাকি পোকার মতো জ্বলছিল দেখতে পাচ্ছিলাম।
আর একটু ওপরে লাইটের পরিমান বেশি দেখে কৌতুহল-বসত Angchu কে জিগ্গাসা করে জানতে পারলাম এটা একটা indian army এয়ারপোর্ট আছে , নাম টা ভুলে গেছি । কোনো Google map এ পাওয়া যাবে না Angchu বলেছিল । সোজাসুজি নাথুলা বর্ডার বলে এখানে আর্মি এয়ারপোর্ট। মাঝে মাঝে indian army এই হোমস্টের কাছে আসে চেকিং এর জন্য।
আরও একটা তথ্য দিয়ে রাখি ভাগ্য সঙ্গ দিলে ব্ল্যাক প্যান্থার, স্নো -লেপার্ড, ভাল্লুক, হরিণদের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে।
গল্প করতে করতে জানতে পেরে ছিলাম মাঝেমধ্যেই এই সব হোমস্টের কাছাকাছি চলে আসে ,যদিও রাতের দিকে আসে। তবে শুনেছিলাম কুকুর , ভেড়া , গরু মাঝে মধ্যেই মিসিং হয়ে যায় মানুষ মিসিং হয়নি কোনো দিনও ।
কাল আমাদের গন্তব্য দার্জিলিং, রাস্তা বেশি নয় ১৯ থেকে ২০ কিলোমিটার মত ১ঘন্টা থেকে দেড়ঘন্টা মত লাগবে। ব্যাগ পত্র গোছগাছ সেরে নিয়ে একটু দেরি করে রাত ১০টা নাগাদ ডিনার করতে গেলাম।
কাল রাতে চিকেন মিল ছিল আজও চিকেন মিল সাথে রুটি, রাইস ,ডাল, সবজি,আলুভাজা ,চাটনী আর পাঁপড়। ডিনার শেষে কালকের জন্য দার্জিলিং-গামী একটা গাড়ির ব্যাবস্থা করে রাখতে বলে দিলাম Angchu কে ।
তৃতীয় দিন ৩১শে মে ২০১৯ ( শুক্রবার )
আজ দেরি করে উঠলাম । আকাশের মুখ ভার তাই আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেলাম না। ব্রেকফাস্ট সেরে আংচুর সাথে বসে পড়লাম হিসাব-নিকেশে। অ্যাডভান্স এর টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা পেমেন্ট করলাম সাথে ENTRY PERMISSION FARES ও পেমেন্ট করে দিলাম।
৯টা নাগাদ গাড়ির ড্রাইভার আমাদের হোমস্টেতে এসে হাজির। আংচু আর সুশীলার 9 বছরের একটি ছেলে আছে , মামারবাড়ি সোনাদা থেকে পড়াশোনা করছে। তার সাথে আজ দেখা হয়ে গেল । কিছু একটা কারণে সে মা -বাবার কাছে আজই সকালে এসেছে। সকলে মিলে ফটো পর্ব সারলাম এবার বিদায়ের পালা। Angchu , Sushila আর গাড়ির ড্রাইভার আমাদের Luggage গুলো নিয়ে গাড়ির কাছে রওনা দিল । আমরাও পিছন পিছন গাড়ির কাছে পৌঁছে গেলাম। সকলেরই মন-টা খারাপ গত ২দিনে আমরা আংচুদের ফ্যামিলি মেম্বার হয়ে উঠেছিলাম। বিদায় জানিয়ে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে টাটা সুমোতে করে রওনা দিলাম।
10. BEST TIME TO VISIT CHATAKPUR ?
বর্ষার সময় টুকু বাদ দিলে সারাবছর আপনি চটকপুর আসতেই পারেন। জুনের লাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মিডল পৰ্যন্ত টুরিস্ট ইকো-কটেজগুলি বন্ধ থাকে তাই খোঁজ খবর নিয়ে আসবেন।
11. HOW TO REACH CHATAKPUR ?
চটকপুর যাওয়ার জন্য নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা আর নিকটতম রেল স্টেশন হল নিউ জলপাইগুড়ি।
দুই জায়গা থেকেই চটকপুরের জন্য পুরো গাড়ি ভাড়া করুন বা শেয়ার গাড়িতে করে রোহিনী চা বাগান দেখে খানিক রেস্ট নিয়ে কার্সিয়ং হয়ে সোনাদা চলে আসুন সেখান থেকে টার্ন নিয়ে জঙ্গলের পথে প্রবেশ করুন।
তারপর জঙ্গলের পথের শোভা অনুভব করতে করতে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে যান চটকপুর।
তারজন্য প্রায় ৬৪ কিলোমিটার পথ ও ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট সময় আপনাকে দিতেই হবে এই অপূর্ব সুন্দর জায়গাটিকে উপভোগ করবার জন্য।
12. WHERE WILL YOU STAY & WHY WILL YOU STAY HERE ?
A. আপনি কি নিৰ্ভেজাল আতিথেয়তা ভালোবাসেন ?
B. আপনি কি হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক দৃশ্যের যদি সম্মুখীন হতে চান ?
C. আপনি কি Sunrise Point থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে থাকতে চান ?
D. আপনি কি Organic food ভালোবাসেন ?
E. আপনি কি সবুজ ভালোবাসেন ?
উচ্চমানের থাকার জন্য অতিরিক্ত খরচ যদি না করতে চান উপরি উল্লেখিত ৫টি জিনিসকে মাথায় রেখে হোমস্টেতে রাত্রিবাস করতে চান আমি তাহলে অবশ্যই আপনাকে Angchu ও Sushila-র SUNRISE হোমস্টেতে থাকতে বলবো।
Point no 2 & 3 te ki eki entree fee bola hoyechhe naki duti alada ?